দীর্ঘ জুলুম, শোষনের পরে অনেক আশা- নিরাশায় দোদুল্যমান অবস্থায় আমরা নতুন সরকার পেয়েছি। স্বাগতম, দেশের নতুন অভিভাবকদের। নতুন সরকারের কাছে আমরা নিরাপত্তা, শান্তি ও সম্মান প্রত্যাশা করি। কিন্তু দিন দিন আমরা আশাহত হচ্ছি। মেয়ে শিশুদের প্রতি পাশবিক আচরণ ক্রমাগত বেড়েই চলছে। এমন নির্মমতা বন্ধে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ দেখিনি! ডমেস্টিক ভায়োলেন্স বন্ধের ব্যাপারেও কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখিনি! গৃহ পরিচারিকাদের উপর নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। নারী নেতৃত্ব বিষয়ে অনেকেই খুব কনসার্ণ, ভালো কথা, কিন্তু নারীর নিরাপত্তা, সম্মান রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত কেন!!

আন্তর্জাতিক ভাবে দেশের ভাবমর্যাদা সুউচ্চ করতে শিক্ষা বিভাগ এবং খেলাধূলার বিভাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটো বিভাগের উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি । জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগে বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে।যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদেরকে অযোগ্য বলছিনা, তবে অন্যান্য দল থেকে ও জ্ঞানী,বিচক্ষণ কয়েকজন কে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিলে আরও সুন্দর হতো। সরকারি দলের বাহিরে কি যোগ্য, অভিজ্ঞ, কেউ নেই!! সর্বোপরি দেশের সকল বিভাগে দায়িত্ব বন্টনে পরিবারতন্ত্র, দলীয় তন্ত্রের উর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সৎ, দক্ষ,যোগ্য ব্যক্তিগণ কে ই পদায়ন করা উত্তম।

সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। দেশে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হলেও সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্বেগ, তৎপরতা কিংবা কার্যকর উদ্যোগের তেমন কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জিং কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে বাজার সিন্ডিকেট ভাংগা, পন্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা,জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিশ্চিত করা, দেশের আইন শৃংখলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা প্রভৃতি। এসব বিষয়ে আরও বেশি তৎপরতা জরুরি।

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই জ্বালানি উৎপাদনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জ্বালানি সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বহু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে। তাই পরিকল্পনা ও বাস্তবতার দূরত্ব কমিয়ে বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ আবশ্যক। বিচক্ষণ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন,প্রজ্ঞাবানদের সাথে থাকলে এবং সৎ, দক্ষ,অভিজ্ঞ লোকদের কে পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করলে দ্রুত যাবতীয় সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

বিরোধী দলের সাথে বর্তমান সরকার সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে, এটি প্রশংসনীয় গুণ। আশা করবো দেশের কল্যাণে যাবতীয় বিষয়ে বিরোধী দলের সাথে আলোচনা, পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।দেশের স্বার্থে সরকার কে সাধ্যনুযায়ী সহযোগিতা করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। গঠনমূলক সমালোচনা, পরামর্শ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি বিষয় উন্নয়নের একেকটি ধাপ বা সিড়ি। বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান সরকার তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণে এগুলোকে আত্মসংশোধনের রিমাইন্ডার হিসেবে গ্রহণ করে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। মহান আল্লাহ তাদেরকে শত্রু- মিত্র চেনার তৌফিক দান করুন। দুষ্কৃতিকারীর কু- পরামর্শ থেকে রক্ষা করুন। আশা করি ফেসবুক পোষ্টের কারণে আর কেউ গ্রেফতার হবেনা, সংবাদপত্রে ও স্বাধীনতা থাকবে। অধিকারের দাবি জানানোর অধিকার যেন আর লুন্ঠিত না হয়, সকল জুলুম,শোষণের অবসান হয়ে প্রিয় দেশ টি যেন শান্তি, স্বস্তির নীড় হতে পারে সেটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। ন্যায়,ইনসাফের সজীব ধারায় সিক্ত হোক দেশ ও জনপদ। মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে যাবতীয় ফিতনা,সংকট ও ষড়যন্ত্র থেকে হিফাজত করুন। দেশের জনগণকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা দান করুন।