কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জ্বালানি তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিনভর ছিল দীর্ঘ লাইন অব্যহত রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে শূন্যহাতে ফিরেছে অনেকে। তবে অনেকে ২০০-৩০০ টাকার তেল পেয়ে স্বস্থি নিয়ে ফিরেছে বাড়িতে। গণমাধ্যম কর্মীরা সম্মানজনক সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে লাঞ্ছিত হয়ে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। এদিকে ভোক্তাদের মাঝে তেল সরবরাহ করতেও হিমসিম খেতে হয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের। আবার তেল সরবরাহের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতাদেরও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে দেখা গেছে।

উপজেলার ৩টির মধ্যে ১টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। সব ফিলিং স্টেশনেই দীর্ঘ লাইন ও জটলা বাস্তবিক। উপজেলার শিপলু ফিলিং স্টেশন ও গাজী ফিলিং স্টেশনে দুইদিন সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভোর থেকেই বাইকাররা তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে সামিল হয় পেট্রোল নেয়ার জন্য। এর ফলে প্রায় এক কিমি দীর্ঘ লাইন পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়, বাড়ে জনভোগান্তি।

ফিলিং স্টেশনে সুশৃঙ্খলভাবে তেল সরবরাহে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ডকে নিরলসভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে তেল সরবরাহে ফিলিং স্টেশন মালিককে সার্বিক সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। চলমান জ্বালানি তেল সংকট নিরসন এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন মালিকদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকার তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যেমন পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংবাদিকদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানাও অব্যহত রয়েছে। ৬ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন তিনটি পাম্পে তিনজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছেন। পাম্পের মালিক ও ম্যানেজাররা জানান, আমরা চাহিদা মত তেল আনতে পারছি না। সংকট লেগেই আছে। গ্রাহকদের সাথে বাকবিতন্ডা করতে করতে আমরা হাঁপিয়ে গেলাম। ডিপো আমাদের কম তেল দেওয়ায় ট্রাক ভাড়া করতে যেয়ে লোকসান হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) থেকে সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের জন্য পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনগুলীতে দিনভর ছিল দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে শূন্যহাতে ফিরেছে অনেকে। আবার অনেকে ৫০০টাকার তেল পেয়েও স্বস্থি নিয়ে ফিরেছে বাড়িতে। গণমাধ্যম কর্মীরা সম্মানজনক সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে লাঞ্ছিত হয়ে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। এদিকে ভোক্তাদের মাঝে তেল সরবরাহ করতেও হিমসিম খেতে হয়েছে পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশন মালিকদের। আবার তেল সরবরাহের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতাদেরও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে দেখা গেছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার দৌলতপুর উপজেলার ৩টি ও পাশর্^বর্তী ভেড়ামারা উপজেলার ১টি পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সব ফিলিং স্টেশনেই ছিল দীর্ঘ লাইন ও জটলা। উপজেলার তারাগুনিয়ায় সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লাদর্গায় রফিক ফিলিং স্টেশন ও আল্লারদর্গার পার্শ্ববর্তী দফাদার ফিলিং স্টেশনে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে একইচিত্র। ভোর থেকেই বাইকাররা তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে সামিল হয় পেট্রোল নেয়ার জন্য। এরফলে আল্লারদর্গা বাজার থেকে তারাগুনিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ লাইন পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বাড়ে জনভোগান্তিও।