হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট ধলইপুল এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির টপসয়েল কাটার ঘটনায় অবশেষে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এ অভিযান চালায়।
গত ৪ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ফেলা এবং গর্ত করে বৈদ্যুতিক খুঁটি ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর জব্দ করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান। তিনি জানান, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় ওই এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে গভীর খাদ তৈরি করা হচ্ছিল, যা স্থানীয়দের কাছে ‘সাগর সদৃশ’ গর্ত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এতে একদিকে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালপাড় ঘেঁষে মাটি কাটার কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খাল ভেঙে আশপাশের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন জমির মালিক অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক জমি দখল করে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের খুঁটির নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই স্থানে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক সহযোগীকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।