চট্টগ্রামের হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে স্পিড ব্রেকারের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একাধিক স্পিড ব্রেকার থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা থামছে না। সর্বশেষ চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—বারবার স্পিড ব্রেকার বসিয়ে কি দুর্ঘটনার স্থায়ী সমাধান হবে?

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্পিড ব্রেকারের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সড়ক প্রশস্তকরণ ও প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল স্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় ডিভাইডার নির্মাণ করা হলে বিপরীতমুখী যানবাহনের সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।

নিয়মিত এ সড়কে চলাচলকারী স্থানীয়দের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্পিড ব্রেকার রয়েছে। তাদের হিসাবে হাটহাজারী থানা গেট এলাকায় প্রায় ১০টি, হাটহাজারী মাদ্রাসা গেটে ৮টি, হাটহাজারী মেডিকেল এলাকায় ৪টি, হাটহাজারী র‌্যাব অফিস এলাকায় ১০টি, মিরেরহাট বাজারে ৩টি, চারিয়া বাজারে ১২টি, দরগা রাস্তা এলাকায় ৪টি এবং ফরহাদাবাদ এলাকায় ৪টি স্পিড ব্রেকার রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, “হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়ক নয়, এটি যেন স্পিড ব্রেকার সড়কে পরিণত হয়েছে।” তাদের মতে, অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ায়। তাই নতুন করে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সম্প্রতি চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক আহত হওয়ার প্রতিবাদে স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল ডিভাইডার নির্মাণ ও সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।

পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের নির্দেশনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনের সড়কসহ মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় স্থানে স্পিড ব্রেকার ও রোড ডিভাইডার স্থাপন, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় দ্রুত আলোর ব্যবস্থা করার জন্য মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের একজন বলেন, “স্পিড ব্রেকার সমাধান নয়। স্থায়ীভাবে দুর্ঘটনা কমাতে ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে। শুধু স্পিড ব্রেকার বসিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।”

অপর একজন বলেন, “স্পিড ব্রেকার বা ডিভাইডার থাকলেই হবে না, চালকদেরও সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানো ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে স্থায়ী ডিভাইডার নির্মাণ, সড়কবাতি, সাইন-সিগন্যাল, প্রয়োজনীয় প্রশস্তকরণ এবং চালকদের সচেতনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।