মো. সমুজ আলী রানা, বাহুবল (হবিগঞ্জ) : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা দিতে বাহুবল উপজেলায় নির্মাণ করা হয় একটি ট্রমা সেন্টার (আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাকেন্দ্র)। ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটির নির্মাণকাজ বিগত ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়।

প্রায় ১৩ বছর পার হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এটি চালু করা যায়নি।ঢাকা - সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে মাধবপুর উপজেলা থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার প্রান্তসীমানা পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৮২ কিলোমিটার। মহাসড়কের এই অংশে শিল্প নগরী গড়ে উটায় এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত।

এ মহাসড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে, মহাসড়কটির কাছে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। ট্রমা সেন্টার উদ্বোধনের পরও চালু না হওয়ার কারণে মহাসড়কটিতে হতাহত ব্যক্তিরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য ২০১০ সালে ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় বাহুবলে ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভবনটি গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দেয় গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকায় সেটি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে দুই বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েক বার চিঠি চালাচালিতেই কেটে গেছে ১৩ বছর।

এরই মধ্যে বিগত ২০২২ ইং সনের শেষেরদিকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করে অবকাঠামোগত সংস্থার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২৩ ইং সনের ২ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে ওই বছরের ১১ জুন বিগত আওয়ামীলীগের আমলের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মো.শাহনেওয়াজ ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু ট্রমা সেন্টারটিতে প্রয়োজনীয়-সংখ্যক চিকিৎসক, জনবল কিংবা যন্ত্রপাতি না থাকায় তা পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা সম্ভব হয়নি।

মহাসড়কের এই অংশে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত প্রায় সকল রোগীদেরই সিলেট অথবা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু অনেকের পক্ষেই আর্থিক কারণে ঢাকা-সিলেট নিয়ে দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করছে।