মোঃ খোরশেদ আলম কলারোয়া (সাতক্ষীরা): কলারোয়া উপজেলার গাছে গাছে মুকুল ছেড়ে আমের গুটি দেখা যাচ্ছে । চলতি মৌসুমে অনুকুল আবহাওয়ায় গুটি নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম। তাই এবার আমের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছে চাষিরা।

গত কয়েক বছর সারাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীর কারণে আমের ক্ষতি হয়েছিল । যার কারণে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতির মধ্যে পড়েছিল আম চাষিরা। এবার আমের গুটি দাঁড়িয়েছে ভালো।তাই আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে বলে, মনে করছে আম চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম গাছ গুলোতে ছোট বড় আকারে গুটিতে ভরে গেছে। অনেক বাগানে এখন পরিপূর্ণ আমের ধরণ আসতে শুরু করেছে।আর সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে আম বড় হচ্ছে। এ বছর গাছে গুটির পরিমান বেশি। আমচাষিরা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা এবার কলারোয়া উপজেলায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তাদের ভাস্য মতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং ভালো মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে আমের ফলন আগের বছরকেও ছাড়িয়ে যাবে।

তাই আম চাষিরা আশায় বুক বেধে আগাম গাছের পরিচর্যা শুরু করেছে। তাদের একমাত্র ভরসা চলতি মৌসুমে তারা এবার আম বিক্রি করে গত বারের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে। মৌসুমি আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়ে, থাকে। এরমধ্যে হিমসাগর, ন্যাড়া, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, আম্রপালি, বোম্বাই, লতা, দেশীয় লতাও আটির আম ইত্যাদি।

উপজেলার আম চাষিরা জানান, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই তারা পুরো গাছ কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়ে ছিলাম। এতে করে গাছ থেকে শোষক জাতীয় পোকা নিধন হয়েছে। যার ফলে গাছে আমের ফলন ও ভালো হয়েছে।

উপজেলার আমচাষি ইলিশপুর গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, এ বছর আবহাওয়া আমের জন্য কিছুটা অনুকুলে রয়েছে। কিছু দিন আগে যে হালকা বৃষ্টি হয়েছে তাতে আমের জন্য খুব ভালো হয়েছে। এর মধ্যে অনেক গাছে গুটি ছাড়িয়ে আমে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের আম গাছ ও গুটির পরিচর্যা করার সময়। ভালো ভাবে পরিচর্যা করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এরমধ্যে তাপদাহের কারণে আমের গুটি কিছু ঝরে যাচ্ছে তবে এতে খুব একটা সমস্যা হবে না।

ইতিমধ্যে দেশীয় জাতের আটির আমের গুটি ভাঙ্গা শুরু করেছে। ব্যাবসায়ীরা বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠাচ্ছে। এই আম দিয়ে আমের খাটা রান্না, আচার,কুনচুর তৈরি হয়ে থাকে।আর এগুলো খেতে খুব মজা ও সুস্বাদু। গ্রামের মা-বোনেরা বোয়েম ভর্তি করে রোদে দিয়ে রাখে। যা তারা পরে শহরের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে পাঠায় এবং খায়। আর রোদে শুকানো আম সারা বছর টক রান্না করে খেয়ে থাকে।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম ইনামুল হক জানান, অন্য বারের তুলনায় আমের উৎপাদন এবার অনেক ভালো। কলারোয়া উপজেলার আম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও যায়। এ বছর উপজেলায় আমচাষ হয়েছে ৫৯০ হেক্টর জমি। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মন আমের উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।