কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় কৃষকেরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি, মাটির উর্বরা শক্তি ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা জেনেও বেশি লাভের আশায় তামাক চাষ করছে। কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করে চলেছে তামাক কোম্পানীগুলো। জেলা কৃষি বিভাগ তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে কৃষকদের পরামর্শ ও সচেতন করার দাবি করলেও সফলতা নেই।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী জেলার মোট ১ লক্ষ ৬২ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির মধ্যে আবাদযোগ্য অতি উর্বর ১লক্ষ ১৫হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে ধান, গম, আখ, পাট, ডালবীজ, তেলবীজসহ নানা জাতের খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত খাদ্যশস্য জেলার চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ করা হয় জেলার বাইরে। এদিকে জেলার কৃষি উর্বর অঞ্চল দৌলতপুর, খোকসা, ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলার ৬৫হাজার হেক্টর আবাদি জমির একটি অংশ গ্রাস করেছে তামাক চাষে।

কুষ্টিয়া জেলার তামাক কোম্পানি নিজেদের কাঁচামালের যোগান সরবরাহ রাখতে কৃষকদের মাঝে সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরন দিয়ে তামাক চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তামাক চাষ করাচ্ছে। এদিকে কৃষি বিভাগ কৃষকদের তামাক তামাক চাষের বাইরে একই মৌসুমে গম, মসুর, ছোলা, মটর, ভুট্টা, সরিষাসহ অন্যান্য বিকল্প ফসল উৎপাদনে তামাকের তুলনায় অধিক মুনাফা আয়ের পথ দেখিয়ে উৎসাহিত করলেও সফলতা তেমন নেই। বিএটিবি, ঢাকা টোবাকো, আবুল খায়ের, জামিল গ্রুপ, নাসির গ্রুপসহ যারা এখানে তামাক শিল্প গড়ে তুলেছে। তারা কৃষকদের ভুল তথ্যদিয়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে তামাক চাষে আকৃষ্ট করে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস বলেন, তামাক চাষকে বন্ধ করে দেয়ার আইন তো আমাদের হাতে নেই। তবে তামাক চাষকে নিম্নগামী করতে আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের সচেতনতার কাজ করে যাচ্ছে। এসব জমিতে তামাক চাষ না করে খাদ্যশস্য উৎপাদন করলে গম, মসুর, ছোলা, মটর, ভুট্টা, সরিষা ও অন্যান্য তেলবীজসহ সবগুলী ফসল মিলে আড়াই হাজার মেট্টিক টন খাদ্যশস্য উদ্ধৃত্ত উৎপাদন সম্ভব হতো। কিন্তু তামাক চাষের ফলে উল্লেখিত খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। মাটির উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে, পরিবেশ দূষনসহ জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়ছে।

জেলার মিরপুর উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মিরপুর উপজেলাতে ২৪হাজার ৩০ হেক্টর আবাদি কৃষি জমির মধ্যে ৮হাজার হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে তামাক চাষ হয়েছে। খোকসা উপজেলার তামাক চাষি হযরত আলী জানান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, মাটির উর্বরা শক্তি ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা মানতে গেলে আমরা পারবোনা। পোল্ট্রী ব্যবসায় অনেক লোকসান দিয়ে দেনা হয়েছি, বাধ্য হয়ে তিন একর জমি লিজ নিয়ে তামাক চাষ করছি। তিনি ভালো দাম পেয়ে লোকসান পুশিয়ে আবার ঘুরে দাাঁনোর আশাবাদী।

এবিষয়ে কথা বলতে বিএটিএবি’র চেচুয়া কেন্দ্রের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করলে তারা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা: নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, তামাকের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তামাক কেন্দ্রীক স্বাস্থ্য জটিলতা যেমন-কিডনি, হার্ট, ফুসফুসসহ মানবদেহের অতিস্পর্শকাতর অঙ্গহানি এবং মরণঘাতী বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে তামাকের উৎপাদন ও ব্যবহার অবশ্যই বন্দ করা দরকার।