সাজ্জাদুল ইসলাম ইয়ামিন, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিবছর প্রচুর নারিকেল ও সুপারি উৎপাদন হয়। নারিকেল ও সুপারির বাণিজ্যিক উৎপাদনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে এই জেলা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

দেশে নারিকেল-সুপারির জন্য লক্ষ্মীপুরের সুনাম রয়েছে। সবচেয়ে বেশি নারিকেল-সুপারি উৎপাদনের ফলে, লক্ষ্মীপুরকে নারিকেল-সুপারির জেলাও বলা হয়। আবহাওয়া উপযোগী হওয়ার প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে নারিকেল-সুপারি উৎপাদিত হয়। যা লক্ষ্মীপুরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। লক্ষ্মীপুরের চারপাশে অনেকগুলো নারিকেল-সুপারির বাগান রয়েছে যেগুলো আমাদের চাহিদা মিটায় পাশাপাশি সতেজ, নির্মল পরিবেশ এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। জেলাটির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২,৭৩৫ হেক্টর জমিতে নারিকেল চাষ হয়। যা থেকে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ কোটি শুকনো নারিকেল উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলাটিতে প্রায় ৭,২০০ হেক্টর জমিতে সুপারির চাষ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭০,০০০ টন আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুরে ১,১৩,৯৩১ টন সুপারী উৎপাদিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ধান, পাট, গম, আলু এবং বিভিন্ন শাকসবজির পাশাপাশি নারিকেল-সুপারি ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপারি চাষীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করায় এবং আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলাটির প্রতিটি বাড়ীর আঙ্গিনায় এবং আশপাশে নারিকেল-সুপারি গাছের দেখা মিলে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে রপ্তানি করার ফলে লক্ষ্মীপুর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে। আগামী দিনে আরো বেশী ফলন পেতে হলে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। আমরা আশাবাদী, উৎপাদন আরে বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের পাশাপাশি বহিঃবিশ্বেও রপ্তানি করতে পারবো। লক্ষ্মীপুর অনেক বৈচিত্র্যময় একটি জায়গা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে সাথে নদী কেন্দ্রিক অনেকগুলো পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া, বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে জেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই ভূমিকা এবং অবদান অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারের সহায়তা করা জরুরি। বিশেষ করে, নারিকেল-সুপারির ফলন বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক সহায়তা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুরে একটি নারিকেল-সুপারির গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করলে যুগান্তকারী ফলাফল অর্জিত হবে। যেখানে উন্নত বীজ, রোপণ পদ্ধতি, সঠিক সময় নিয়ে গবেষণা করা হবে। তাই সরকারকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হলে, প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিখাত গড়তে হবে। লক্ষ্মীপুরে কৃষিখাত এবং নারিকেল-সুপারি খাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলে, রাজনীতি, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি অর্থনীতিতে আরো জোরদার ভূমিকা রাখতে পারবে।