মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের হাতে পণবন্দী হয়ে পড়েছে মৎস্য রূপসা পাইকারী মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ীরা। মহানগরীর কয়েকটি সড়কে গভীর রাতে তারা এসব চক্রের হাতে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে।

রূপসা পাইকারী মৎস্য বাজারটি খুলনা জেলার বৃহত্তর মৎস্য বাজার। বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রির জন্য আসেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন এক শ্রেণির মাদক সেবী ও কিশোর গ্যাং মাছ বহনকারী পিকআপের পিছন থেকে মাছ নিয়ে পালিয়ে যায়। মাঝে মাঝে মাছ না নিতে পারলে গাড়ির চালককে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল মারতে থাকে। এক পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সুযোগ বুঝে মাছের ড্রাম নিয়ে চলে যায়। পুলিশের নিরব ভূমিকা থাকার কারণে দিন দিন এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না।

সাতক্ষীরার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তারা গভীর রাতে ট্রাকে করে মাছ নিয়ে বাজারে বিক্রির জন্য আসেন। ফজরের আজানের সময় তারা গল্লামারী, ময়লাপোতা মোড়, পিটিআই মোড় পার হয়ে মাছ নিয়া রূপসা পাইকারী মৎস্য বাজারে আসেন। তাদের মাছ বোঝাই ট্রাক যখনই গল্লামারী ব্রিজ হতে ময়লাপোতা রাস্তার উপর স্পিডব্রেকার পার হওয়ার জন্য গতি কমায় তখনই ১৫/২০ জনের সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত তিন পাশ দিয়া গাড়িতে উঠে মাছের ড্রামের মধ্যে হাত দিয়া মাছ তুলে নিয়ে যায়। এ সময় গাড়ির গতি না কমালে তারা ইট-পাথর গাড়ির কাচের উপর ছুড়ে মারে। এছাড়া নগরীর পিটিআই মোড়েও একই ঘটনা ঘটায়।

সরকার ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করায় বর্তমানে সাতক্ষীরার চাষের পাঙ্গাস, কৈ, পাবদা, রুই, কাতলা মাছগুলি দিয়ে খুলনাবাসীর আমিষের চাহিদা পূরণ হয়। এ ঘটনাগুলি যদি অবিলম্বে বন্ধ করা না হয় কিংবা তাদের চালক, হেলপার ও মাছের নিরাপত্তা দিতে না পারে তবে তারা আর রূপসা পাইকারী মাছ বাজারে মাছ আনবে না মর্মে সমিতি ও ব্যবসায়ীদেরকে জানিয়েছেন। আর যদি মাছ আসা বন্ধ হয়, তাহলে খুলনাবাসীর মাছের চরম ঘাটতি দেখা দিবে এবং বাজারে মাছের চরম সংকট দেখা দিবে। এ বিষয়ের প্রতিকারের দাবিতে ব্যবসায়ী মহল কেএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন।

অপরদিকে দিঘলিয়া উপজেলার পদ্মবিলা গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর এ লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী তৈয়েবুর রহমান। ভুক্তভোগী তৈয়েবুর রহমান দিঘলিয়া থানার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কোবাদ মুন্সির ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে একই গ্রামের শামসু শেখের দুই ছেলে-উজ্জ্বল শেখ ও আফজাল শেখ প্রবাসীর নিকট জোরপূর্বক ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতি ও সন্ত্রাসী মামলা রয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অপকর্ম করে তারা ভারতে পালালেও বর্তমানে দেশে ফিরে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার মদদে আবারও ত্রাস সৃষ্টি করছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসী তৈয়েবুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানাকে জানালেও তারা তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যারা আমার কাছে চাঁদা চেয়েছে তারা মূলত আওয়ামী লীগের দোসর। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বাধ্য হয়েই খুলনা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে এর প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছি।”

খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা নেয়া হবে।