- উৎপাদন কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে
কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট গতকাল রোববার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে রামপাল প্ল্যান্টের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এই বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১,১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
অন্যদিকে, গত বুধবার গভীর রাতে কারিগরি জটিলতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদানি পাওয়ারের দ্বিতীয় ইউনিটটি গতকাল দুপুর বারোটার দিকে পুনরায় বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে।
বিপিডিবি ও পিজিসিবির তথ্যমতে, দিনের শুরুর দিকে আদানি থেকে সর্Ÿোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে দুপুরের পর ২টার দিকে দুটি ইউনিট মিলিয়ে যৌথ সরবরাহ ১,০০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে। বিকেলের দিকে এই সরবরাহ আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ঝড়ের কারণে কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় কয়লা সংকটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে প্রায় এক মাস ধরে কম ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছিল আদানির গোড্ডা প্ল্যান্ট। গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ১,২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। গত বুধবার রাতে আদানির প্ল্যান্টটির মোট উৎপাদন ১,৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে মোট উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের এই কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটে মোট ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
২০১৭ সালে বিপিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষর করে আদানি। চহিদা অনুযায়ী এর আগে বাংলাদেশে ১,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
বিপিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আদানির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পর সেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি রামপালের বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি দ্রুত পুনরায় চালু ও উৎপাদনে ফেরাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে।
সূত্র জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে আবারও উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটেছে। কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ে দুপুরে কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জানায়, বিগত দিনগুলোতে কয়লা সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত থাকায় কেন্দ্রটিতে পূর্ণ গতিতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল এবং এটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। রোববার হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এর ২ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করে দিতে হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের ইউনিট-২ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো ইউনিট বন্ধ হলে তা পরিদর্শন ও মেরামতের জন্য প্রথমে কুল ডাউন (ঠান্ডা) করতে হয়। এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিটটি পরীক্ষার জন্য ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা এসে পর্যবেক্ষণ করার পর বলা সম্ভব হবে এটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে। আপাতত দুই দিন পর পরিস্থিতি স্পষ্ট বোঝা যাবে।
উল্লেখ্য, রামপাল কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বন্ধ হওয়া ইউনিটটি দ্রুত সচল করতে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।