অবিক আশরাফ স্বনন
‘‘নামকরণের ইতিহাস’’ বা স্থাননামের প্রতি কৌতূহল রয়েছে প্রায় সব ধরনের পাঠকের। কেননা স্থাননামের ভিতরে লুকিয়ে আছে কত ইতিহাস, জনশ্রুতি, কিংবদন্তি; আছে ঐ স্থানের লৌকিকজীবনের পরিচয়। ব্যক্তিনামের চেয়ে স্থাননামের গুরুত্ব অনেক বেশি। ব্যক্তিনাম নিরর্থক হতে পারে কিন্তু স্থাননাম প্রায়ই নিরর্থক হয় না। ব্যক্তি মারা গেলে (কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি বাদে) তার নাম প্রায় সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়ে যায় কিন্তু স্থাননাম প্রায়ই বিলুপ্ত হয় না। আর এ কারণেই স্থাননাম চিরস্থায়ী। বলছিলাম ড. আশরাফ পিন্টু রচিত বিশাল কলেবরের বইয়ের কথা। এই বইতে শুধু স্থাননামের ইতিহাস নয়, এতে আছেÑ বিশ্বের সকল দেশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও দেশগুলোর নামকরণের ইতিহাস, ভারতের রাজ্যগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও নামকরণ, পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহকুমাগুলোর পরিচিতি ও নামকরণ, বাংলাদেশের সকল জেলা, উপজেলার পরিচিতি ও নামকরণ, ৭টি মহাদেশ ও বিখ্যাত সাগরগুলোর নামকরণ, পৃথিবীর প্রধান নদীগুলোর নামকরণ, বাংলাদেশের নদ-নদীর নামকরণ, গ্রহ-নক্ষত্রের নামকরণ, বাংলা ও ইংরেজি বারো মাস ও সাতবারের নামকরণ ইত্যাদি।
স্থাননাম একটি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ঐতিহ্যগত গর্বের সম্পদ। স্থাননাম বা নামকরণের ইতিহাস ঘেঁটে বের করা যায়Ñ ওই স্থানে বসতি শুরুর সময়, স্থানের সাথে নদীর প্রবহমানতার সম্পর্ক, কৃষি, শিল্প বিনির্মাণের ইতিহাস, বিদেশিদের আগমন ও তাদের ভাষা-শব্দের ব্যবহার, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা ও জনপ্রিয়তার স্বরূপ। সর্বোপরি স্থাননামের মধ্য থেকে অতীতের বিলুপ্ত ও বিস্মৃত উপাদানের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার করাও সম্ভব।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই বইটি ছাত্র-শিক্ষক, কিশোর-তরুণ, যুবক-বৃদ্ধÑ সবশ্রেণির পাঠকের কাছে ব্যাপক পাঠক-প্রিয়তা পাবে। আর পেলেই আমার দীর্ঘসময়ের শ্রম ও সাধনা সার্থক হবে।
দেশ-বিদেশের নামকরণের ইতিহাস
ড. আশরাফ পিন্টু
প্রকাশনী : গতিধারা, ঢাকা
প্রচ্ছদ : মোস্তাফিজ কারিগর
পৃষ্ঠা : ৮০০
মূল্য : ১৫০০ টাকা।