পাঁচ মাস পনের দিন বয়সের শিশু মিশকাত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তার বাবার আবেগঘন আকুতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। শিশুটির পিতার আকুতি- ‘একটি বারও বাবা ডাক শুনতে পারলাম না, বাবা বলার আগেই চুপ হয়ে গেছে মিশকাত’। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেও প্রিয় কলিজার টুকরো সন্তানকে বাঁচাতে না পেরে হাসপাতালের বারান্দায় বসে একপর্যায় নির্বাক হয়ে যান সিএনজি অটো চালক মাজেদুল হক। এ ঘটনা ঘটেছে-বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। প্রিয় সন্তানের এমন বিদায়ে হতভাগা পিতার বিমর্ষ মুখ দেখে অনেকের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে।
এর কয়েকদিন আগে বিয়ের ১১ বছর পর কোল জুড়ে আসা আট মাস বয়সি চাঁদপুরের শিশু তাজিম গত ২২ এপ্রিল প্রাণ হারায় হামে। মৃত সন্তান কোলে ফারজানা-হেলাল দম্পতির সেদিনের বুকফাটা কান্নার ছবি দেখে চোখের পানি আটকাতে পারেনি দেশবাসী। এভাবে প্রতিদিনই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গড়ে ৮ থেকে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হচ্ছে আরও বহু শিশু।
দিন দিন হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল যেনো দীর্ঘ হচ্ছে। কোনো চেষ্টাতেই এই মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। ২০১৯-২০ সালের মহামারি করোনা বা কোভিড-১৯ ভাইরাসের মতোই হাম ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। অনেকাংশে কোভিডে মৃত্যুর চেয়েও নিরব ঘাতক হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। পার্থক্য হলো কোভিডে সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতো আর হামে এখন পর্যন্ত শিশু মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি। কিন্তু মহামারি হামের যদি এখনই লাগাম টেনে না ধারা যায়-তা হলে এর ভয়াবহতা কতদূর গড়াবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
তবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ার সাথে দ্রুত চিকিৎসার চেয়ে দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা চলছে। হামে আক্রান্ত কিভাবে রোধ করা যায় তার চেয়ে কোন সরকার এর জন্য দায়ী তা নিয়ে চলছে রাজনীতি। হাম কোন সরকারের কারণে হয়েছে, কেন হাম ছড়াচ্ছে এই দায় চাপানোর ব্যাধি যেনো পেয়ে বসছে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদেরও। এছাড়াও শুধীসমাজের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে বেশি সময় দিচ্ছেন এর দায় অন্তর্বর্তী সরকার না বর্তমান সরকারের তা নিয়ে! অনেকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে আসছেন। তবে এই মুহূর্তে বেশি দরকার দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা। তা নিয়ে মাথাব্যথা কম বলেই মনে হচ্ছে।
শিশু মিশকাতের সিএনজি অটোরিকশা চালক পিতা মাজেদুল হকের জানার আগ্রহ নেই যে কোন সরকারের ব্যর্থতায় তার ছেলের এমন মৃত্যু হলো। মাজেদুলের স্বজনদের ভাষ্য, চমেক হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় শিশুটিকে অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরের দিন আবার চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের এই এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে আইসিইউ বেডের জন্য যাওয়া আসার অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা ব্যর্থ। হাসপাতালের আইসিইউ বেডের কতটা স্বল্পতা। দেশের প্রতিটি হাসপাতালেই এভাবে অপ্রতুলতা রয়েছে আইসিইউ বেডের। মুমূর্ষু অবস্থায় কোনো শিশুকে বাঁচিয়ে রাখতে যখন আইসিইউ বেডের প্রয়োজন হয় তখন দেখা যায় খালি নেই। রোগীর অবস্থা যখন সঙ্কটাপন্ন চিকিৎসকরা তখন বলেন দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যান। স্বজনরা পাগলপ্রায় হয়ে খুঁজতে থাকেন কোন হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে। এমনও অনেক সময় দেখা গেছে আইসিইউ বেড খুঁজতে খুঁজতে রোগী অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে পথেই মারা গেছে।
গত এপ্রিলে হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আসা ছয় মাস বয়সী শিশু গৌরীকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। তবে তৎক্ষণাৎ আইসিইউতে শয্যা মেলেনি। ২৬ শিশুর পেছনে অপেক্ষমাণ ছিল সে। ঠিকই সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে, তবে গৌরীর প্রাণ নেভার পর। কয়েকদিন পর মৃত্যুর পরদিন দুপুরে হাসপাতাল থেকে যখন আইসিইউ শয্যা খালি হওয়ার খবর জানাতে ফোন করা হয়, ততক্ষণে গৌরীর নিথর দেহ আর এই জগতে নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাম ও হামের উপসর্গে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত শিশুসহ মোট ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৯ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৯ হাজার ১৬০ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৭ হাজার ৩০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করছেন টিকার সংকটের কারণে হাম পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য দায়ী মূলত অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রয়োজন ছাড়াই উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্তের ফলে হামের বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগেই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কেউ সেদিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় মার্চের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বর্তমানে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই ছড়িয়ে পড়েছে হাম। প্রতিদিনই হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু। প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত ৬ মে হাম-রুবেলা, ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার চালান এনেছে দেশে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। আরো ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা আনার তথ্য জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে টিকার আর সংকট হবে না। তবে গণমাধ্যমে যে মৃত্যু এবং আক্রান্তের হিসাব আসছে বাস্তাব চিত্র ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- হাসপাতালে নেয়ার আগে বাড়িতেই অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এবং অনেকে জানেই না যে তার সন্তান হামে আক্রান্ত ছিল। হামের উপসর্গসহ অনেক শিশুকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে সিট না থাকায় ভর্তি করতে না পেরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরে মারা গেছে তাদের হিসাব স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট দফতরে নথিভুক্ত হয়নি। ফলে হামে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে প্রকৃতপক্ষে বেশি হবে।
সাম্প্রতিক আলোচনায়-দেশে সরকারিভাবে শিশুদের দেওয়া বিভিন্ন রোগের টিকার যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটির জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করছেন অনেকে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মন্ত্রী ও নেতাদের কেউ কেউ রয়েছেন। হাম আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দায় রয়েছে মন্তব্য করে ফেসবুকসহ সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন নাগরিকদের অনেকে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের আগের সরকারের ‘অদূরদর্শীতার’ কারণে এখন খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে।
খবরে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে একটা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি ভালো, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই। তাদের এমন অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে অবধারিতভাবে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এ কথা একটি প্রভাবশালী বিদেশী গণমাধ্যমকে বলছিলেন বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। কিন্তু টিকা কেনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ঠিক কী ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল? সেই উদ্যোগ ঘিরে স্বাস্থ্যখাতে সংকটই-বা তৈরি হলো কীভাবে? স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থার সহায়তায় ১৯৯৮ সালে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চালু করে বাংলাদেশ সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচিটি স্বাস্থ্যখাতের কর্মীদের কাছে ‘সেক্টর প্রোগ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত। এটি বাস্তবায়ন করা হতো অপারেশন প্ল্যান (ওপি) তথা বিষয়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে খাদ্য-পুষ্টি, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য, সংক্রামক-অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা, জনবল নিয়োগসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। সেক্টর প্রোগ্রামের শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য কার্যক্রমের আওতায় এতদিন সারা দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত হতো। এক্ষেত্রে টিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সংস্থা গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ এতদিন টিকা কিনতো ইউনিসেফের মাধ্যমে। এতে টিকা কিনতে সরকারকে খুব একটা বেগ পেতে হতো না এবং সময়ও তুলনামূলকভাবে কম লাগতো, ওই গণমাধ্যমটিকে বলছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হোসেন। কিন্তু দাতানির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার পরিকল্পনা করা হয়। দাতানির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি এটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল নিজেদের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়িয়ে সেক্টর প্রোগ্রামগুলোকে মেইনস্ট্রিমিং করা বা রাজস্ব খাতের আওতায় আনা, একথা বলেছিলেন আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ এহসানুর রহমান। সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে সরে আসার ফলে টিকা কেনা বাবদ ইউনিসেফকে দেওয়া অর্থ বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অনেক ব্যয় কমে আসার কথাও জানান এই খাতের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। ২০২২ সালে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানান কারণে সেটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষমতায় আসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এসময় বিভিন্নখাতে সংস্কার নিয়ে নানান আলোচনার মধ্যে সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়ে নিজেরা টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইউনিসেফকে বাদ দিয়ে টিকা কেনার পদক্ষেপ নিতে গেলে তাতে প্রশ্ন তোলে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে দর কষাকষির এক পর্যায়ে ইউনিসেফকে আবারও টিকা কেনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ততদিনে বেশ কয়েক মাস পার হয়ে যায়। এছাড়া অর্থছাড়, হিসাব নিরীক্ষাসহ অন্যান্য কাজে আরও সময় গেলে যায়। এগুলো করতে গিয়ে প্রায় ছয় মাস টিকা কেনা বন্ধ থাকায় ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বিভিন্ন জেলায় শিশুদের টিকার সংকট দেখা দেয়। তখন একাধিকবার টিকাকেন্দ্র গিয়েও শিশুকে টিকা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক।
বিশ্লেষকরা মনে করেন-দায় চাপানোর চেয়ে ক্রান্তিকাল সময়ে মহামারি থেকে উত্তরণের উপায় বের করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। এখানে দলমত নির্বিশেষে সকলেরই হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করা নিয়ে বিশেষ ভাবে সবাইকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা দরকার। হামের মতো সংক্রামক রোগ কোনো দল, মত বা শ্রেণি দেখে ছড়ায় না। তাই এর প্রতিরোধও হতে হবে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্র ও সমাজেরও সম্মিলিত দায়িত্ব। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে এসে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকাদান এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই আমরা একটি নিরাপদ ও হামমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।
লেখক : সাংবাদিক।