এক দিকে ইরান যুদ্ধ, অন্যদিকে বদলে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতি, এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক দশক পর দ্বিতীয় দফায় চীন সফর করলেন ১৩ থেকে ১৫ মে। ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা নিয়ে আলোচনা যখন চলমান, সে থমকে থাকা পরিস্থিতিতে এ সফরকে বিশ্লেষকরা বেশ গুরুত্বের সাথে দেখেছেন। বিশ্ব যেমন বদলেছে তেমন আমেরিকার চির বৈরি চীনেও অনেক কিছুই ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। চীন এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী এবং অনেক বেশি দৃঢ়চেতা বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এমন পরিস্থিতিতে হয় ট্রাম্পের সফর।
এদিকে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের এক সপ্তাহ না পেরোতেই চীন সফর করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া দুদিনের এ সফরকে শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। বরং তাদের মতে, এটি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে গড়ে ওঠা নতুন শক্তির ভারসাম্য, পশ্চিমা প্রভাবের চ্যালেঞ্জ এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়া ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাই পুতিনের এই সফরকে অনেকেই দেখছেন বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে একটি ‘কৌশলগত ভারসাম্যের প্রদর্শন’ হিসেবে যেখানে চীন একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ভাঙছে না, আবার অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে গভীর জোটও অটুট রাখছে।
যাইহোক ট্রাম্পের সফরের প্রসঙ্গে ফিরি। তার কি অর্জন এ নিয়ে নানা আলোচনা এখনো চলছে। ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীন সফরে যান, তখন ওয়াশিংটন ও বেইজিং দুই রাজধানীতেই প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। সবার আশা ছিল এ বিষয়ে কিছু একটা হলে হতেও পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তা হয়নি। বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের সফরের বড় প্রেক্ষাপট ছিল ইরান সংকট, আগেই বলেছি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল, চীন যেন তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন এ ক্ষেত্রে খুব সীমিত সহযোগিতা করতে চায়। কারণ ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বেইজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন একদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা চায়, অন্যদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করতে চায় না। ফলে ইরান প্রশ্নেও এ সফর থেকে নাটকীয় কোনো অগ্রগতি আসেনি। শুধু তাই নয় যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে এমন আলামত দৃশ্যমান। তা যদি হয় হয় সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এ যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এ যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা-আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।
সফর থেকে তার ফেরার পরপরই স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নিরসনে কোনও কার্যকর অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা হলেও দু’পক্ষের অবস্থান আগের মতোই ভিন্ন রয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জেরে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। কেননা, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। বেইজিং বৈঠকের সময় চীন পুনরায় যুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সংঘাত শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর গুরুতর মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করছে।চীন আরও জানায়, তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি চার দফা পরিকল্পনা অনুসরণ করছে।
হোয়াইট হাউস জানায়, দু’দেশ একমত হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকতে হবে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। চীন এ বিষয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়নি, যদিও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানি বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, দু’দেশ একমত যে, ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তবে চীনের বিবৃতিতে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও কঠোর অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। বরং তারা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছে।
ফলে প্রত্যাশিতভাবে চীনকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে রাজি করানোর মার্কিন প্রচেষ্টা কোনও দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।সুতরাং বলা যায়, শি-ট্রাম্প বৈঠক ইরান যুদ্ধ নিরসনে কোনও ফলপ্রসূ দিক নির্দেশনা দৃশ্যমান হয়নি। দুই পরাশক্তির কৌশলগত ও রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যে কারণে সফর ছিল আলোচিত : প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফর, সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিমান ও আর্থিক খাতের করপোরেট প্রধানদের বিশাল বহর সব মিলিয়ে একে কেবল কূটনৈতিক সফর নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। অ্যাপল, এনভিডিয়া, বোয়িং, অ্যাক্সনমবিল, সিটিগ্রুপ, টেসলা, মেটা এমন বহু প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ছিলেন। সফরের আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, এটি ‘চীনকে আরও উন্মুক্ত করার’ একটি বড় সুযোগ হতে পারে। কিন্তু সফর শেষে দেখা গেল অর্জন তেমন নেই। প্রত্যাশিত বড় কোনো বাণিজ্যচুক্তি হয়নি, নতুন শুল্ক সমঝোতা হয়নি, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়নি, এমনকি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কাঠামোগত বিরোধেরও দৃশ্যমান সমাধান আসেনি বলে এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে রয়টার্স।ফলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছে ট্রাম্পের এই সফর কি শেষ পর্যন্ত তর্জন গর্জনই সার হয়েছে।
সফরের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল মার্কিন করপোরেট জগতের জায়ান্টদের উপস্থিতি। ট্রাম্প প্রশাসন মূলত দেখাতে চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্যবসাগুলো এখনও চীনা বাজারে প্রবেশ ও সম্প্রসারণে আগ্রহী। বড় চুক্তি না হওয়ার বিষয়ে মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বলছে, এজন্য কয়েকটি কারণকে সামনে এনেছেন বিশ্লেষকেরা। দু’দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন অনেক গভীর। তার প্রমাণ পাওয়া যায় সফরকালে দেয়া উপহারের বাক্সগুলো মার্কিন অতিথিরা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে গেছেন। তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
চীন-আমেরিকা সম্পর্ক চির বৈরি আগেই বলেছি। বৈরিতার মধ্যেও তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক চলে আসছে, এই সফরই তার প্রমাণ। তবে তাইওয়ান প্রশ্নে দু দেশের বিরোধ চরমে। ২০১৮ সালের বাণিজ্যযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল শুল্কবিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দক্ষিণ চীন সাগর, সাইবার নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই।চীন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রযুক্তিগত উত্থান ঠেকাতে চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীন রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, প্রযুক্তি চুরি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি সফরে গিয়ে বড় অর্থনৈতিক সমঝোতা করা রাজনৈতিকভাবে দুই পক্ষের জন্যই কঠিন ছিল।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এবার চীনে গেছেন তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, উৎপাদক মূল্য সূচক দ্রুত বাড়ছে, সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ইরান যুদ্ধ ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এ ছাড়া, ট্রাম্পের আগের শুল্কনীতি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিরল খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ’ সরবরাহে চীনের পাল্টা কড়াকড়ি ওয়াশিংটনের দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে। অনেকে মনে করেছিলেন, অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে চীন এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় চুক্তিতে আগ্রহী হবে। কিন্তু বাস্তবে বেইজিং অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে ছিল।চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সফরের সময় ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র কথা বললেও তাইওয়ান প্রশ্নে কড়া বার্তা দেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বেঁধে যেতে পারে।এতেই বোঝা যায়, চীন এখন অর্থনৈতিক আলোচনাকে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন থেকে আলাদা করে দেখতে রাজি নয়।
সফরের পুরো আয়োজন ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় ভোজ, ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা, লাল গালিচা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সবকিছু দিয়ে চীন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। এমনকি ট্রাম্পের পছন্দ বিবেচনায় রেখে খাবারের মেন্যুও সাজানো হয়েছিল।কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো মূলত প্রতীকী কূটনীতি।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প মনে করছেন, তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন। তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।