আগামী ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগে বাংলাদেশের মাটিতে হবে ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপ। এশিয়া কাপ ছাড়াও ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে বাংলাদেশ। এই দুই ইভেন্টকে কেন্দ্র করেই পূর্বাচল স্টেডিয়ামের প্রাথমিক কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল পূর্বাচল স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সিনিয়র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা পুরো বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন এবং আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা আশা করছি, ২০২৭ সালের এশিয়া কাপ এবং ২০৩১ সালের বিশ্বকাপ, যেখানে কো-হোস্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটি মাথায় রেখে প্রথম ধাপে ক্রিকেট বোর্ডই কার্যক্রম শুরু করবে।’ আমিনুল আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যা কিছু করণীয় আছে, সেটি আমরা পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে চাই, যাতে এই প্রকল্প নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি বা জটিলতা না থাকে।’ পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেই আলোচনা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিছু উইকেট তৈরি হলেও বাস্তবিক অর্থে স্টেডিয়ামের কোনো কাঠামোই তৈরি হয়নি। তামিম এবার কাজ শুরুর কথা জানালেন, ‘প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো দ্রুতই করে নেওয়া হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজ শুরু করা। আগে আলোচনা হলেও কাজ শুরু হয়নি, তবে এবার প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত কাজ শুরুর স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। আমরা খুব শিগগিরই কাজ শুরু করতে চাই।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেগা প্রকল্প হিসেবে পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যার নকশা ছিল নৌকার আদলে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে যায় নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ড। এরপর ফারুক-বুলবুলের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড এসে স্টেডিয়ামের নাম ও নকশায় পরিবর্তন আনে। এবার দায়িত্ব নিয়ে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, পুরো নকশা বদল না করে আংশিক পরিবর্তন আনা হবে। র্বাচলে মাঠ পরিদর্শনে যান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এক প্রশ্নের উত্তরে তামিম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী পুরো ডিজাইনটি দেখেছেন। আমরা তাকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছি। কিছু জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে শুধু পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তন নয়; যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই করা হবে।’ ফারুক ও আমিনুলের বোর্ড পূর্বাচল স্টেডিয়ামের যে ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেছে, তামিম তাদের সঙ্গে আবার আলোচনা করবেন। প্রয়োজনে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি, ‘আমরা ডিজাইনারদের সঙ্গে আবার আলোচনা করব। প্রয়োজনে অন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কথা বলে এনএসসির সঙ্গে সমন্বয় করে এগোব। কারণ একটি বড় স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারের বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।’ পূর্বাচলে শুরুতে কেবল ক্রিকেটকেন্দ্রিক সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিসিবি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেটের পাশাপাশি আরও কয়েকটি খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘পূর্বাচলে বরাদ্দকৃত মাঠে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ অবশ্যই হবে, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি এখানে মাল্টিপারপাস স্পোর্টস সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রিকেট বোর্ড, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করে বলেন, ‘আমরা চাই, এ প্রকল্প নিয়ে আর কোনো জটিলতা বা বিতর্ক না থাকুক। সবকিছু সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্বাচলে আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও অন্যান্য ক্রীড়া সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’ আমিনুলের সুরে সুর মিলিয়ে তামিমও বলেন, ‘এটি বড় একটি প্রকল্প। ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাগুলোকেও এখানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাননীয় মন্ত্রীও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ক্রিকেট বোর্ড আর্থিকভাবে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, তাই অন্যান্য খেলাধুলার উন্নয়নেও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্পে বিভিন্ন স্পোর্টস যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।’ ক্রিকেটের বাইরে আরো কিছু খেলার কথা মাথায় রেখে স্টেডিয়ামের কাজ করা হবে বলে জানান তামিম, 'এটা অনেক বড় একটা প্রোপাটি। এখানে আমাদের চেষ্টা থাকবে ক্রিকেটের সাথে সাথে মাননীয় মন্ত্রী বললেন কিছু কিছু স্পোর্টসকে আমরা যদি যুক্ত করে নিতে পারি তাহলে আমাদের স্পোর্টসের জন্য ভালো হবে। টাকার দিক থেকে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান হয়তবা অন্য অনেক বোর্ডের চেয়ে ভালো। আমাদেরও দায়িত্ব অন্য স্পোর্টসকে দেখাশোনা করা।' স্টেডিয়ামের ডিজাইন নিয়ে তামিম বলেন, 'যারা আমাদের এটার ডিজাইন করেছেন তাদের সাথে আলোচনা করবো। অন্য কারোর সাথে যদি কথা বলার দরকার তাদের সাথে আলোচনা করে এনএসসির সাথে একসাথে মিলে, কারণ এখানে সরকারের অনেক বড় ইনভেস্টমেন্টের দরকার পড়বে যদি আমরা একটা বড় স্টেডিয়াম করতে চাই।'