মোস্তফা মোঘল : নতুন সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। বিএনপি সরকার গঠনের পর সারাদেশের সকল জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সারাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটির জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে জানেনা কেউ। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই সারাদেশের সকল জেলা, বিভাগ ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে পদাধীকার বলে দু’জন সরকারি আমলা এবং ৪ জন ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক এবং একজন ক্রীড়া সাংবাদিককে সদস্য করা হয়। দক্ষ লোকের অভাবে দেশের অনেক জেলা ক্রীড়া সংস্থা কাংখিত লক্ষ্য অজনে ব্যর্থ হয়। তাছাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্তাগুলোতে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে পারেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এমন পরিস্তিরি মধ্যেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১০ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি পত্রের মাধ্যমে সারাদেশের সকল উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আগের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেয়। একই পত্রে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটির নমূনা প্রকাশ করা হয়। সেখানে পদাধীকার বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার আহ্বায়ক এবং স্থানীয় একজন ক্রীড়া সংগঠক/ ক্রীড়াবিদকে সদস্য সচিব রাখা হয়েছে। কমিটিতে ৫জন সরকারি আমলা এবং দুজন ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া সংগঠককে রাখার কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনার আলোকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির তালিকা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এসব কমিটি অনুমোদিত হয়নি। ফলে অভিভাবকহীন ভাবেই চলছে সারাদেশের জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। কোন কমিটি না থাকায় দেশের সকল জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অধীনে সবধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খেলাধুলার যে গতি ফিরে এসেছিল তা এই মুহুর্তে থমকে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। কমিটি গঠন না করায় সারাদেশের জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচিত কমিটি পেতেও দেরি হচ্ছে। তিনি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে নতুন করে চিন্তা ভাবনা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় কমিটি গঠন করা দরকার। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচনের কোন প্রয়োজন নাই বলে তিনি মন্তব্য করেন।