আর কয়দিন পরই শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। সারা বিশ্বের মতো গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত এ আয়োজনকে ঘিরে বাংলাদেশেও থাকে দর্শকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা। টিভি স্ক্রিনের সামনে সকলেই পছন্দের দলের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু এবার বাংলাদেশী দর্শকরা বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পারবে কি না এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কিনতে পারেনি। এবারের আয়োজন বসছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮ দলের ঐতিহাসিক ফিফা বিশ্বকাপ। সে হিসেবে, বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ২০দিন। কিন্তু বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীরা খেলা দেখতে পারবে কি পারবে না- সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে এমন আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পিছনে রয়েছে লোকসান ও বিশাল অর্থের চাপ। এবার ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক কোম্পানি স্প্রিংবক। বাফুফের একটি সূত্র বলেছে, সিঙ্গাপুরের এই কোম্পানি বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছে দেড়শত কোটি টাকার মতো দাবি করেছে। ট্যাক্স, ভ্যাটসহ মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো। টাকার পরিমাণ অনেক বেশি বলে বিটিভি ও অন্য সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান কেওই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে গিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অনিয়মের অভিযোগও ছিল।

অন্যদিকে, এ বছর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়সূচি বাংলাদেশ দর্শকদের জন্য মধ্যরাত ও ভোররাতে হওয়ায় টিভিতে খেলা দেখার মানুষ কম হতে পারে। তাহল বিজ্ঞাপন থেকে আয় কম হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত টাকা বরাদ্দ করা চ্যালেঞ্জিং। তবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। কিভাবে সম্প্রচার জটিলত দূর করা যায় তার জন্য একটি কমিটি করে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে বাফুফের প্রতিনিধিও আছেন।

সূত্র মতে, এই কমিটিকে স্প্রিংবকের সাথে দরকষাকষির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দর্শকদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো খবর এখনো জানা যায় নি। বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেছেন, ‘আমার কাছে কোনো খবর নেই। আমাদের সভাপতিকে (তাবিথ আউয়াল) রাখা হয়েছে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটিতে। কোনো আপডেট থাকলে তিনি জানবেন।’