বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টমাস ডুলি। তিনি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। তবে এবারই প্রথম বাফুফে বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছে তা নয়। অতীত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশিরভাগ কোচই ছিলেন বিদেশি। এ যাত্রার প্রথম সূচনা হয় ১৯৭৮ সালে। সেবার এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য জার্মানির ওয়ার্নার বেকেলহপটকে জাতীয় ফুটবল দলের কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রায় পাঁচ দশকে অনেক বিদেশি কোচ এসেছেন। কেউ সাফল্য এনেছেন, কেউ রেখে গেছেন হতাশার ছাপ। জার্মান কোচ অটো ফিস্টার বাংলাদেশকে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে মিয়ানমারের চার জাতি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে ইরাকি কোচ সামির শাকিরের অধীনে দক্ষিণ এশীয় গেমসে (এসএ) স্বর্ণ জয় করে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ দল।
সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০০৩ সালে অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের হাত ধরে। সেবার ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর আর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হতে পারেনি। ২০১০ সালে সার্বিয়ান কোচ জোরান দর্দেভিচের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছিল দক্ষিণ এশীয় গেমসের স্বর্ণ। তবে সামির শাকিরের হাত ধরে ১৯৯৯ সালে জেতা স্বর্ণ ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের একটি মাইলফলক। ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছন। তার অধীনেই সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া বিদেশি কোচ হিসেবে তার নাম এখনো স্মরণীয়। জেমি ডের কোচিংয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলে গ্রুপ পর্ব টপকে নকআউট পর্বে উঠেছিল।
সর্বেশষ স্প্যানিশ হ্যাভিয়ের কাবরেরা বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব সামলানো কোচ। তাঁর অধীনে ২০২৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এর বাইরে যারা কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন-জার্মানির গার্ড স্মিথ, ইরানের নাসের হেজাজি, সুইজারল্যান্ডের ওল্ডরিখ সোয়াব, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাং ইয়াং ম্যান, জার্মানির অটো ফিস্টার, ইংল্যান্ডের মার্ক হ্যারিসন, আর্জেন্টিনার আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি, ভারতের সৈয়দ নাইমুদ্দিন, ব্রাজিলের এডসন সিলভা ডিডো, সার্বিয়ার জোরান দর্দেভিচ, ক্রোয়েশিয়ার রবার্ক রুবচিচ, মেসেডনিয়ার নিকোলা ইলিয়েভস্কি, নেদারল্যান্ডসের লোডভিক ডি ক্রুইফ, ইতালির ফ্যাবিও লোপেজ, বেলজিয়ামের টম সেইন্টফিট, ইংল্যান্ডের এন্ডু ওর্ড, স্পেনের অস্কার ব্রুজন, পর্তুগালের মারিও লেমস।